শিরোনাম

রাশিয়া বিশ্বকাপে ম্যাচ চলাকালীন কত মিনিট চোট পেয়ে যন্ত্রণায় গড়াগড়ি দিয়েছেন নেমার, জানেন? উত্তর হল ১৪ মিনিট। যা চোখ কপালে তোলার মতোই! নেমার বিশ্বকাপে খেলেছেন চার ম্যাচ। অর্থাত্, মোট ৩৬০ মিনিট। এবং তার মধ্যে ১৪ মিনিট ঘাসে যন্ত্রণাকাতর অবস্থায় দেখা গিয়েছে তাঁকে। মানে ৮৪০ সেকেন্ড! ফুটবলমহলে অনেকেই যা ‘গেমসম্যানশিপ’ বা ‘প্লে-অ্যাক্টিং’ হিসেবে চিহ্নিত করছেন। জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লোথার ম্যাথেউজ যেমন সরাসরি ‘নাটক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এটাকে। তাঁর সাফ কথা, নেমারের তো নাটক করার দরকার পড়ে না! ঘটনা হল, কয়েক মাস আগে প্যারিস সাঁ জাঁর হয়ে খেলতে নেমে মার্সেইয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচে চোট পেয়েছিলেন নেমার। আশঙ্কা ছিল, এই চোটের ফলে হয়তো বিশ্বকাপেই খেলতে পারবেন না তিনি। ব্রাজিল জাতীয় দলের ডাক্তার যদিও বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। তিনি সরাসরি চলে এসেছিলেন প্যারিসে। পরীক্ষা করেছিলেন চোট। ছয় মাস পর ফের চোট পরীক্ষা করে দেখবেন বলেও জানিয়েছিলেন। ব্রাজিল ও ফ্রান্সের প্রচারমাধ্যম জানিয়েছিল তাঁর চোট পঞ্চম মেটাটারসালে। সঙ্গে রয়েছে এন্টেরো-এক্সটারনাল স্প্রেনও। অস্ত্রোপচার করতে হয় পায়ে। ক্লাবের হয়ে মরসুমের শেষের দিকে খেলতে পারেননি। স্বভাবতই চোট ছিল শঙ্কা। নেমার অবশ্য সুস্থ হওয়ার জন্য নিয়মমাফিক সবকিছুই করেছেন। এবং চোট থেকে সেরে উঠেই নেমে পড়েছেন বিশ্বকাপে। তবে একশো শতাংশ সুস্থ হওয়ার আগেই নামতে হয়েছে মাঠে। সুইত্জারল্যান্ডের বিরুদ্ধে কাপ অভিযানের শুরুতেই হোঁচট খাওয়ার পর অনুশীলন থেকে একবার খোঁড়াতে খোঁড়াতে বেরিয়ে আসেন তিনি। যা নিয়ে ফের জল্পনা বাড়ে। তখন ব্রাজিল দলের ডাক্তার রডরিগো লাসমার আশ্বস্ত করেন সমর্থকদের। বলেন, "ওঁর ডান পায়ে আর কোনও সমস্যা নেই। ও পুরো সুস্থ। ক্রমশ ছন্দে ফিরছে, বাড়ছে আত্মবিশ্বাস।" কিন্তু ক্রমাগত খেলার ফলে চিড় বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। প্রশ্ন হল সেই চোটের জন্যই কি সামান্য স্পর্শেও পড়ে যাচ্ছেন তিনি? বাইরে থেকে যা দেখাচ্ছে নাটকের মতো। শহরের বিশিষ্ট ক্রীড়া-চিকিত্সক শান্তিরঞ্জন দাশগুপ্ত বলেছেন, “পঞ্চম মেটাটারসালের চোট আসলে কড়ে আঙুলে।এটা চার সপ্তাহের মধ্যে ঠিক হয়ে যাওয়ার কথা। পড়ে যাওয়ার সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই। অ্যাঙ্কেলের স্প্রেনের ক্ষেত্রেও ফুটবলাররা যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করে। প্রোটেকশন নেয়। মনে হয় না আগের চোটের জন্য হাত ধরে বা জার্সি ধরে টানলে নেমার পড়ে যাচ্ছে। ও যা করছে, তার কিছুটা নাটকই। এই মেক্সিকো ম্যাচে যেমন পায়ে চাপ না পড়া সত্ত্বেও মৃত্যুযন্ত্রণার মতো ছটফট করল। বুট দিয়ে চেপে দিলে লাগতে পারত। কিন্তু তা হয়নি। নেমার একটু বেশিই করছে এটা।” ত্রীড়া-চিকিত্সার সঙ্গে শহরের যাঁরা যুক্ত, তাঁরাও একই মতামত দিচ্ছেন। যে, আগের চোটের পর কেটে গিয়েছে কয়েক মাস। নেমারের এখনও স্পর্শ করলেই এত ব্যথা লাগার কথা নয়। আর এখানেই আপত্তি তুলছে ফুটবলসমাজ। ম্যাথেউজ সোজাসুজি তাঁকে বিশ্বের সেরা পাঁচ ফুটবলারের মধ্যে রেখেও তুলছেন প্রশ্ন। বলছেন, দিয়েগো মারাদোনা থেকে লিওনেল মেসি, কারওরই দরকার পড়়েনি এভাবে সহানুভূতি আদায়ের। নেমারেরও পড়ে না। তিনি কি সত্যিই নাটক করছেন? নাকি, ভিতরে ভিতরে পুরনো ব্যথাই যন্ত্রণা আনছে? উত্তর একমাত্র নেমার ডি সিলভা স্যান্টোস জুনিয়রই জানেন!