শিরোনাম

ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম থেকে খবর পড়ার হার কমে ধীরে ধীরে হোয়াটসঅ্যাপের মতো মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশনগুলোয় বেড়ে যাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার দ্য রয়টার্স ইনস্টিটিউটের করা এ-সংক্রান্ত গবেষণা তথ্য প্রকাশিত হয়। তাতে বলা হয়, অনলাইনে ভুয়া খবর ছড়ানো নিয়ে সারা বিশ্বের মানুষের মধ্যে অনেক বেশি উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। রয়টার্স ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঁচটি মহাদেশের ৩৭টি দেশের মানুষের মধ্যে গবেষণা চালানো হয়। তাতে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে গত বছরের তুলনায় এ বছর খবরের জন্য সামাজিক যোগাযোগের ব্যবহার ৬ শতাংশ কমে গেছে। গবেষণা নিবন্ধের প্রধান লেখক নিক নিউম্যান বলেছেন, ফেসবুকে খবর খুঁজে পাওয়া, পোস্ট করা ও শেয়ার করার হার কমে যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে মানুষের খবর গ্রহণের হার কমে গেছে। এ ছাড়া চলতি বছরের শুরুতেই ফেসবুকের কাছ থেকে বিশাল ব্যক্তিগত তথ্য বেহাত হওয়ার ঘটনার পর বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছে ফেসবুক। ওই কেলেঙ্কারির কারণে বিশ্বজুড়ে অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী এ সাইট থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। এখন অনেকেই হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের মতো সাইটে বেশি সময় দিচ্ছেন। অবশ্য এ অ্যাপগুলোর মালিকানাও ফেসবুকের হাতে। রয়টার্স ইনস্টিটিউটের ‘দ্য ২০১৮ ডিজিটাল নিউজ রিপোর্ট’ অনুযায়ী, তারা যে নমুনা নিয়ে গবেষণা করেছিল, তার মধ্যে মালয়েশিয়ায় প্রায় অর্ধেকের বেশি মানুষ (৫৪%) খবরের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করছেন। এরপর রয়েছে ব্রাজিল (৪৮%), স্পেন (৩৬%) ও তুরস্ক (৩০%)। গবেষণার জন্য ৭৪ হাজার অনলাইন পাঠককে নিয়ে একটি সমীক্ষা চালায় জরিপকারী প্রতিষ্ঠান ইউগভ। এ সমীক্ষার তথ্য নিয়ে গবেষণা করেছে রয়টার্স ইনস্টিটিউট। এতে দেখা গেছে, এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকায় ইনস্টাগ্রাম জনপ্রিয় হচ্ছে আর ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় হচ্ছে স্ন্যাপচ্যাট। তবে খবরে বিশ্বাসযোগ্যতার ক্ষেত্রে এ বছর গড় প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে। গত বছরে খবরে বিশ্বাসযোগ্যতার গড় ছিল ৪৩ শতাংশ, যা এ বছর ৪৪ শতাংশ হয়েছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ইন্টারনেটে সঠিক, নাকি ভুয়া খবর, সে ক্ষেত্রে ৫৪ শতাংশের বেশি মানুষ সচেতন থাকেন। এর মধ্যে ব্রাজিলের ৮৫ শতাংশ মানুষ সচেতন আর সবচেয়ে কম সচেতন (৩০%) নেদারল্যান্ডসের মানুষ। সমীক্ষায় অধিকাংশ মানুষ মত দিয়েছেন, খবর প্রকাশক ও প্ল্যাটফর্মকে ভুয়া ও অবিশ্বাসযোগ্য খবর প্রকাশ ঠিক করার ক্ষেত্রে দায়দায়িত্ব নিতে হবে। ইউরোপে ৬০ শতাংশ, এশিয়ায় ৬৩ শতাংশ আর যুক্তরাষ্ট্রে ৪১ শতাংশ মানুষ মনে করেন, ভুয়া খবর ঠেকানোর ক্ষেত্রে সরকারের আরও অনেক কিছু করার আছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, খবর পাওয়ার ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে পডকাস্ট। যুক্তরাষ্ট্রে ৩৩ শতাংশ ও যুক্তরাজ্যে ১৮ শতাংশ মানুষ পডকাস্ট ব্যবহারের কথা জানান।